কিছুদিন আগে খুব কাছের এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জানতে পারলাম কিছুদিন আগেই সে নতুন বিজনেস শুরু করেছে। যেহেতু বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ বড় ভাইও ফেসবুকে নিজের বিজনেসের জন্য একটি পেজ খুলে ফেলেছে। আর নিজের কাছে ডূয়াল কারেন্সির কার্ড থাকার সুবাধে নিজের পেজের পেইড এডভারটাইজিংটা নিজেই চালাচ্ছিল। বিভিন্ন কথার মাধ্যমে জানতে পারলাম ইতোমধ্যে সে ফেসবুক এডভারটাইজিং এর পিছনে অনেক টাকা খরচ করে ফেলেছে। পেইজ শুরুর সময় কোনভাবে সে জানতে পেরেছে পেইজে যত বেশি লাইক থাকবে তার প্রোডাক্ট এর বিক্রির সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে। যেহেতু তার নিজস্ব দুয়াল কারেন্সির কার্ড আছে তাই সে বিন্দুমাত্র দেরি করে নি। সাথে সাথে লাইক আনার মিশনে নেমে পড়েছে। যেহেতু বিক্রি বেড়ে যাবে সেই উত্তেজনায় সে ৫০ হাজার এর উপর লাইক নিয়ে আসলো পেইজে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এড চালানোর সময় কি অডিয়েন্স সেট করেছিলেন। আমি তার উত্তর শুনে রীতিমত হতভম্ব। সে কোন অডিয়েন্স নির্বাচন না করেই ইচ্ছেমত পেইজে লাইক নিয়ে এসেছে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে প্রোডাক্ট এর যারা প্রকৃত অডিয়েন্স এর মধ্যে পড়ে না তাদের সংখ্যাই বেশি। দিন শেষে ফলাফল শূন্য।
আবার যখন পোস্ট প্রমোট করছে তখন রিচ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু কোন রেসপন্স আসছে না। তার কথা শুনেই আমার একটা খটকা লাগলো। ফেসবুক ক্যাম্পেইন এর অবজেক্টিভ নির্বাচনে কোথাও না কোথাও ভুল হয়েছে। সাথে ল্যাপটপ থাকায় আমি তার রানিং ক্যাম্পেইনগুলো দেখতে চাইলাম। যা ভেবেছিলাম তাই। তার দরকার সেল, অথচ সে নির্বাচন করে রেখেছে “রিচ” অবজেক্টিভ। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম রিচ অবজেক্টিভ নির্বাচন করার পিছনে কারণ কি? সে আমাকে যে লজিক শুনাল তা শুনে আমি হাসব না কাদবো বুঝে উঠতে পারলাম না। তার ধারণা তার এডটি যত বেশি রিচ করবে তার প্রোডাক্ট সেল হবার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে। দিন শেষে ফলাফল একদম শূন্যর কোঁটায়। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কোন ধারণা না রেখেই আমার কাছের বড় ভাইটি নেমে পরেছিল তার বিজনেস বড় করার মিশনে। ডিজিটাল মার্কেটিং সহজ কোন বিষয় না। আসলাম দেখলাম আর জয় করে ফেললাম এত সহজ হলে সবাই আজ ডিজিটাল মার্কেটার হয়ে যেত।
একটি জিনিস আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিৎ “অল্পবিদ্যা সবসময় ভয়ঙ্কর”, কখনও ভালো কিছু ডেকে আনতে পারে না।
