Showing 8 Result(s)

ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেন্ডস এবং ২০২২

অনলাইনের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে যে বিজনেসগুলো অফলাইনে ছিল সেগুলোও অনলাইনের উপর তাদের আস্থা বেড়ে গিয়েছে। মোটকথা ডিজিটাল মার্কেটিং আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। চলুন দেখে নেই ২০২২ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে সম্পর্কিত কিছু ট্রেন্ডস।

  • সাম্প্রতিক সময় ফেসবুক নিয়ে ঘটনাবলীর জন্য চারিদিকে বলা শুরু হয়ে গিয়েছে ফেসবুকের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে। কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালেও রাজত্ত করতে যাচ্ছে ফেসবুক। অনেক বিজনেস সম্পূর্ণভাবে ফেসবুকের উপর নির্ভরশীল। ইতোমধ্যে ফেসবুক উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন নতুন ফিচার যোগ করেছে তাদের প্ল্যাটফর্মে। সামনের দিনগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলাই যায়। ইন্সটাগ্রাম ঘোষণা করেছে যে তাদের প্ল্যাটফর্ম এখন আর শুধু ফটো শেয়ারিং এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ফিচার যোগ করতে যাচ্ছে তারা।
  • ২০২২ সালে শর্ট ফরম্যাট এর ভিডিও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্লাটফর্মে শর্ট ফরম্যাট এর ভিডিওর মাধ্যমে আপনি সহজেই পারছেন আপানর টার্গেট কাস্টমার এর কাছে পৌছাতে। একটি কথা মনে রাখবেন সম্প্রতি এক গবেষনায় দেখা গিয়েছে ভিডিও এডসের আপনার বিজনেসের কনভার্সন রেট বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুনে বেড়ে যায়।
  • আমাদের অনেকের ধারণা পেইড এডভাররটাইজিং করলে এসইও এর দরকার কি? যারা এরকম ভাবছেন তারা যে বোকার স্বর্গে বাস করছেন বলাই চলে। এসইও এর প্রয়োজনীয়তা কখনই শেষ হবে না। আপনার বিজনেস ওয়েবসাইটে একটি ভালো অবস্থান এনে দিতে পারে পেইড এডভাররটাইজিং এবং এসইও এর সম্মেলিত প্রয়োগ। ২০২২ সালেও আপনি এসইও কে পরিকল্পনার বাইরে রাখতে পারবেন না।
  • ইতোমধ্যে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ২০২২ সালেও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং হতে যাচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
  • সোশ্যাল ম্যাসেজিং এপস যেমন ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটস্যাপ ইত্যাদি ব্যাবহার করে ২০২২ সালে আপনার বিজনেসের পরিধিটাকে আরও একটু বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২২ সালে রাজত্ব করতে চলছে সোশ্যাল ম্যাসেজিং এপসগুলো।
  • লাইভ স্ট্রিমিং এর জনপ্রিয়তা ২০২২ সালে বাড়তে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে বাড়তে যাচ্ছে। বিভিন রকমের নতুন ফিচার যোগ করবে প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের লাইভ স্ট্রিমিংএ এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।
  • AR এবং VR হতে যাচ্ছে ২০২২ সালের বিভিন্ন ট্রেন্ডসগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফেসবুক ইতোমধ্যে তাদের স্মার্ট গ্লাসকে পরিচয় করে দিয়েছে।
  • অনলাইনে বিজনেস করছেন আর ইউজার প্রাইভেসি নিয়ে চিন্তা করবেন না তা কি করে হয়। ২০২২ সালে ইউজার প্রাইভেসি একটি বড় অংশ হতে যাচ্ছে। ইউজার যদি আপনার ওয়েবসাইটে সিকিউর ফিল না করে আপানর ওয়েবসাইটের রেঙ্কিং কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ২০২২ সালে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে স্টোরিজ সেকশনগুলো হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যারা অনলাইনে বিজনেস এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোর উপর নির্ভরশীল তারা স্টোরিজ সেকশন ইউটিলাইজ করতে শিখুন।
  • ডেটার প্রয়োজনীয়তা কখনই ফুরাবার নয়। ২০২২ সালে রাজত্ব করতে চলেছে ডেটা। বিজনেস এর সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে ডেটার উপর ভবিষ্যতে।
  • মার্কেটিং এর নতুন নতুন অটোমেশন আমরা দেখতে যাচ্ছি ২০২২ সালে।
  • বিভিন্ন রকমের গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলো হতে চলেছে ২০২২ ট্রেন্ডসগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আমরা এমন এক সময় বাস করছি যেখানে পরিবর্তন নিয়মত হচ্ছে। উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলোছাড়াও আরও বিভিন্ন রকমের ট্রেন্ডস আমরা দেখতে যাচ্ছি ২০২২ সালে।

প্রফেশনাল যোগাযোগের অত্যাবশ্যকীয় কিছু নিয়মাবলী

নিজের বাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে প্রফেশনাল যোগাযোগের অত্যাবশ্যকীয় কিছু নিয়মাবলী সংখিপ্ত আকারে এইখানে তুলে ধরার ছোট্ট একটুখানি চেষ্টা।

১) আপনার পরিধেয় পোশাক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অপরিচিত মানুষ প্রথমেই আপনার পোশাক দেখেই আপনার বিষয়ে তার মনে প্রাথমিক ধারণা অঙ্কন করে ফেলবে। এটিও ভুলে গেলে চলবে না আপনার পায়ের জুতো জোড়া একটি বড় ভুমিকা রাখে আপনাকে অন্যর কাছে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য।

২) সবার সামনে পা তুলে বসাটা অনেকেই সহজভাবে নিতে পারে না। অনেকেই ভাবতে পারেন আপনি অহংকরী এবং সবার সাথে মেশার ক্ষমতা আপনার নেই।

৩) কারও সাথে ফেস টু ফেস কথা বলার যথাসম্ভব চেষ্টা করুন মোবাইল ফোনটি দূরে রাখার। যার সাথে কথা বলছেন তাকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করুন।

৪) ধন্যবাদ বলতে শিখুন। মনে রাখবেন ধন্যবাদ দিলে কেও কখনও ছোট হয় না।

৫) ব্যবসায়িক পরিচয়ের সময় অবশ্যই আপনার পুরো নামটি উল্লেখ করতে ভুলবেন না একদম। অন্য পক্ষ আপনাকে কিভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, সেটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৬) কেও আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় অবশ্যই দাড়িয়ে থাকুন। ওই সময় আপনি সেখানে না থাকলে অন্যরা আপানার সম্পর্কে খারাপ একটা ধারনা করবে।

৭) ইমেইল করার সময় অবশ্যই ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা ভুল মানুষের কাছে না পৌঁছায়। দরকার হলে ইমেইল ঠিকানা ভালো করে চেক করে নিতে পারেন।

৮) কোনো কাজের সাফল্যে পাবার পর কাজটির সাথে জড়িত সবার অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ভুলে যাওয়া চলবে না একদমি।

৯) প্রতিদিন আমরা এত পরিমাণে কাজ করে থাকি সেখানে ছোটখাটো ভুল হওয়া স্বাভাবিক। এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলে অন্যের উপর দায় চাপানো থেকে বিরত থাকাটাই শ্রেয়। নিজের ভুল স্বীকার করতে শিখি আমরা। এটাও আমাদের মনে রাখতে হবে যেন একি রকমের ভুলের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে।

১০) কর্মক্ষেত্র ছাড়াও আমাদের সবারই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন আছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা যেন আমাদের কাজের উপর কোনরকম খারাপ প্রভাব না ফেলে, সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকাটা জরুরি।

অগ্রিম ধন্যবাদ সবাইকে।

রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় নতুন সংযোজন: ক্লাউড কিচেন

সময়ের সাথে সাথে রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আমরা এখন ঘরে বসেই অর্ডার করে দিতে পারছি আমাদের পছন্দের খাবারটি বিভিন্ন অ্যাপের সাহায্যে। এখন অনেক রেষ্টুরেন্ট আছে যেখানে শুধু আছে রান্নাঘর এবং ষ্টোররুম। বসে খাওয়ার মত বেবস্থা এসব রেষ্টুরেন্ট এ করা হয় না। আবার প্রধান রাঁধুনি এবং তার সহযোগী ছাড়া রাখা হয় না অতিরিক্ত কোন স্টাফ। এসব রেস্টুরেন্ট মুলত অ্যাপের মাধ্যমে খাবারের অর্ডার গ্রহন করে থাকে এবং থার্ড পার্টি অথবা এদের নিজস্ব ডেলিভারি বেবস্থার মাধ্যমে অর্ডার করা খাবার সরবরাহ করে থাকে গ্রাহকের কাছে। সম্প্রতি সময়ে আমরা “ ক্লাউড কিচেন” শব্দটি অনেক বেশি শুনছি। উপরে আলোচিত রেস্টুরেন্ট এর ধরনেকেই বলা হয়ে থাকে “ ক্লাউড কিচেন”।

সহজ ভাবে যদি বলতে যাই “ ক্লাউড কিচেন” হল এমন এক রেষ্টুরেন্ট মডেল যেখানে খাবার এর অর্ডার গ্রহন করা হয় অনলাইনে (অ্যাপ অথবা অন্য কোন উপায়ে) এবং যেখানে বসে খাওয়ার মত বেবস্থা রাখা হয় না। আপনি যে রান্নাঘরে আপনার পরিবারের জন্য রান্না সেটিও হয়ে যেতে পারে আপনার আয়ের একটি উৎস। আপনার ধারেকাছের মানুষজন “ ক্লাউড কিচেন” এর কল্যাণে অর্ডার করতে পারে আপনার হাতের সুস্বাদু খাবার।

অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে “ ক্লাউড কিচেন” এর সুবিধাগুলো কি কি ? সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনার ব্যাবসায়িক খরচ অনেকখানি কমে আসবে কেননা প্রধান রাঁধুনি এবং তার সহযোগী ছাড়া আপনার আর কোন অতিরিক্ত স্টাফ নিতে হচ্ছে না। আবার অনেকে সময় চাইলে নিজের রান্না ঘরেও শুরু করে দিতে পারেন “ ক্লাউড কিচেন” (লাইসেন্স বিষয়ক কিছু জটিলতা থাকে)। তাই এক কথায় বলা যায় অনেক সল্প পুঁজিতে চাইলে যে কেও শুরু করে দিতে পারে “ ক্লাউড কিচেন”। ক্লাউড কিচেনে আরো একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, সম্পূর্ণ রেস্টুরেন্ট সাজানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ থেকে বেঁচে যাওয়া। তাই যারা ভাবছেন “ ক্লাউড কিচেন” শুরু করবেন তারা এখনি নেমে পরতে পারেন। নিচের বিষয়গুলো আমরা “ ক্লাউড কিচেন” শুরু করার পূর্বে বিবেচনায় রাখতে পারি।

যেহেতু “ ক্লাউড কিচেন” এক প্রকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা সেহেতু আপনাকে কয়েক রকমের লাইসেন্স নেয়া লাগতে পারে। যেমন ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, স্যানিটারি লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, কৃষি উপকরণ সনদ, বিএসটিআই সনদ ইত্যাদি। কি ধরনের খাবারের অর্ডার গ্রহণ করবেন এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিদ্ধান্ত আপানার কি ধরনের খাবার আপনি প্রস্তুত করবেন। সেটি হতে পারে বাংলা খাবার (দুপুরের অথবা রাতের), চাইনিজ সেট মেনু, ইতালিয়ান ফুড ইত্যাদি।

“ ক্লাউড কিচেন” এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপানর রান্নাঘর এর স্থান। এরকম স্থান বেছে নিন যেটি আপনার টার্গেট এরিয়ার কাছাকাছি হয় যেন খুব সহজে আপানর অর্ডার করা খাবার সরবরাহ করতে পারেন গ্রাহক এর কাছে।

“ ক্লাউড কিচেন” এ যেহেতু অনলাইন এর মাধ্যমে খাবার অর্ডার গ্রহন করা হয় সেহেতু কোন অ্যাপের মাধ্যমে গ্রহন করবেন সেটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি ফুডপাণ্ডা অথবা নিজের তৈরি অ্যাপ অথবা ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমেও অর্ডার গ্রহণ করতে পারেন। তবে আমার বাক্তিগত অভিমত হচ্ছে শুরুর দিকে ফুডপাণ্ডা, পাঠাও, এদের উপর নির্ভর করাই ভালো। এক্ষেত্রে অবশ্য এদেরকে কিছু কমিশন আপনাকে দিতে হবে।

আপনার “ ক্লাউড কিচেন” এর ব্যবসা লাভজনক হবে কিনা সেটি অনেকাংশে নির্ভর করে আপানর নিবাচিত শেফ এর উপর। অবশ্যই এক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ শেফ আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। সাথে সাথে শেফ এর একজন সহযোগীও আপনাকে নিতে হবে যে কিনা প্রধান শেফকে সাহায্য করতে পারবে।

প্রাপ্ত অর্ডার সমুহ সময়মত গ্রাহকের কাছে প্রেরন করা অত্তাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন এর অর্ডার আরেকজনের কাছে ভুলক্রমে কোনভাবেই প্রেরন করা যাবে না। বেশি অর্ডার এর হিসাব সামলানোর ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে একদম শুরুর দিকে বাড়তি খরচ এড়িয়ে এক্সেলে হিসাব রাখতে পারেন।

মার্কেটিং – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আপনার “ ক্লাউড কিচেন” এর জন্য। অবশ্যই আপানর ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম এবং ইউটিউব এ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে যার মাধ্যমে আপনার কিচেন এর প্রচারনা করতে পারেন। এসব মাধ্যমে নিয়মিত আপানাকে পোস্ট অথবা ভিডিও আপলোড করতে হবে। পেইড মার্কেটিং এর জন্য একটি বাজেট আপনাকে বরাদ্দ রাখতে হবে। কেননা বর্তমান সময় সব মাধ্যমে অরগানিক রিচ একদম কমে গিয়েছে। এছাড়াও যত বেশি সংখ্যক ফুড ডেলিভারি অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন তাতে অনলাইনে আপনার উপস্থিতি বাড়বে।

আশা করি যাদের “ ক্লাউড কিচেন” নিইয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে তাদের এই লিখাটি কাজে দিবে। ধন্যবাদ সবাইকে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি নির্বাচন নিয়ে আর নয় ঝামেলা!

প্রতিটি বিজনেস এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজের প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস এর মাধ্যমে বিজনেসকে আরও লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। বর্তমান সময় ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগ। বিজনেসকে লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং (কিছু কিছু বিজনেস ছাড়া) এর কোন বিকল্প নেই। ডিজিটাল মার্কেটিং ছাড়া বিজনেস নিয়ে বড় কিছু আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের দেশে বিজনেস এ ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন রকমের ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিসের প্রয়োজন পড়ছে আজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের দিকে অগ্রসরের জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের আশেপাশে এত বেশি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে উঠছে যে কারণে ভালো মানের ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি নির্বাচন করতে গিয়ে আমাদের রীতিমত ঘাম ছুটে যাচ্ছে। আশা করছি আমার এই লিখাটি আপনার বিজনেস এর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি  নির্বাচনের কাজ অনেকখানি সহজ করে দিবে। চলুন এক নজরে দেখে নেই কোন বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি নির্বাচনের পূর্বে অবশ্যই বিজনেসের গোল সম্পর্কে আপনার সার্বিক ধারণা থাকতে হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আপনি স্পেসিফিক ভাবে কি অর্জন করতে চাচ্ছেন সেই বিষয়ে যদি অবহিত না থাকেন তাহলে আপনার পক্ষে এজেন্সি নির্বাচন করা দুঃসহ কাজ হয়ে যাবে। আপনি যদি অবহিত না থাকেন তাহলে এজেন্সিকে কিভাবে দায়িত্ব অর্পণ করবেন?

এমন এজেন্সি খুজে বের করুন যার কিনা আপনার ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। যেমন ধরুন আপনি এডুকেশন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজ করছেন। এমন এজেন্সি নির্বাচন করুন যাদের কিনা পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে এডুকেশন সেক্টর এ কাজ করার। যেহেতু তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে তারা সহজেই আপানর বিজনেস এর পেইন পয়েন্টগুলো ধরতে পারবে এবং সমাধানও বের করে ফেলতে পারবে যা কিনা বিজনেসকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে।

এই প্রবাদটি আমরা সবাই জানি “ সস্তার তিন অবস্থা”। ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা যদি কোয়ালিটি থেকে সস্তা জিনিসকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি তাহলে বিজনেসের বারোটা বাজতে বেশি সময় লাগবে না। ধরুন আপানর কাছে তিনটি এজেন্সির প্রপোজাল জমা পড়লো। হাই লেভেল ক্রিয়েটিভ এর একটি কাজের জন্য এজেন্সি ক চার্জ করল ৪০ হাজার টাকা, এজেন্সি খ ৪৫ হাজার টাকা এবং এজেন্সি গ চার্জ করল ১৫ হাজার। আপানর অবচেতন মন কিন্তু এজেন্সি গ এর দিকে যেতে চাইবে কেননা তারা কম চার্জ করেছে। কিন্তু আপনি যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন না যে আসলেই তারা কিভাবে পারবে একই কাজ এত কমে করে দিতে। তাদের সাথে কাজ শুরু করার পর বুঝবেন কি ভুলটাই না আপনি করেছেন যখন কাজের কোয়ালিটি আপনার মন মত হবে না অথবা সময়মত ডেলিভেরি দিতে পারবে না ।

বিভিন্ন এজেন্সির পোর্টফলিও এনালাইসিস করতে টাইম ইনভেস্ট করুন। একটি এজেন্সি কত লম্বা সময় ধরে তার ক্লায়েন্টকে সার্ভিস দিচ্ছে এই বিষয়টা জানা খুব জরুরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে। একটি ভালো এজেন্সির সার্থকতা সেখানেই যখন ওই এজেন্সির ক্লায়েন্ট ধরে রাখার রেট বেশি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পৌঁছানোর আগে এই বিষয় গুলো একটু ভাল্ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির সাথে মিটিঙে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে যান। তাদের ওয়েবসাইট, পোর্টফলিও আর যা কিছু আছে সবকিছু এনালাইসিস করে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন তৈরি করে নিয়ে যান। তাদের কাজের ধরন  সম্পর্কে জানতে চান। কি রকম সময় নিয়ে তারা কাজ ডেলিভেরি করে থাকে তা বুঝে নিন যাতে ভবিষ্যতে কোন সমস্যায় না পড়তে হয়।

কিছু কিছু ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি আছে যারা অবাস্তব প্রমিস করে থাকে তাদের ক্লায়েন্ট এর কাছে কাজটি পাবার জন্য। যেমন ধরুন এজেন্সি ক কোন রকম মার্কেট এনালাইসিস ছাড়াই তার ক্লায়েন্টকে প্রমিস করল তার সেল ১০০ গুণ বাড়িয়ে দিবে এজেন্সির সার্ভিস এর মাধ্যমে। যখনি কোন এজেন্সি অবাস্তব প্রমিস করবে বুঝে নিতে হবে কোন সমসা আছে সেখানে। এসব এজেন্সি কে তালিকা থেকে বাদ দেয়াটাই শ্রেয়।

সোশ্যাল প্রুফ চেক করে নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে। মার্কেটে তাদের গ্রহনযোগ্যতা কেমন যাচাই করতে ভুলে গেলে চলবে না কিন্তু। আপনার নির্বাচিত এজেন্সির সার্ভিস নিয়ে বর্তমান ক্লায়েন্ট এর মনোভাব কেমন সেটিও দেখে নিতে হবে। সবকিছু বিবেচনায় এনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য ডেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা কি না আপানকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে খুবই উপকার করে। যেসব ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি আপানকে রিয়েল টাইম ডাটাতে এক্সেস দিতে গড়িমসি করে তাদের সাথে কোন রকম চুক্তিতে না যাওয়াই ভালো।

একটি ভালো এজেন্সি কখনই লম্বা সময়ের জন্য চুক্তি করার জন্য আপানকে প্রেসার দিবে না। চুক্তি কতদিনের হবে তার সময়সীমা ক্লায়েন্ট এর উপর ছেড়ে দেয় পরীক্ষিত এজেন্সিগুলো। এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

উপরের উল্লেখিত বিষয়গুলো  লক্ষ্য রেখে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি নির্বাচন করার পর তাড়াহুড়ো করা যাবে না ফল পাবার জন্য। আপানর বিজনেসকে ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এজেন্সিকে পর্যাপ্ত সময় এবং পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।

ব্র্যান্ড গড়ার মূলমন্ত্র!

একটি ব্র্যান্ডকে একেবারে শূন্য থেকে প্রতিষ্ঠা করাতে গেলে 4C এর কথা ভুলে গেলে চলবে না (ভিন্ন মত থাকতেই পারে)। আসুন একটু চোখ বুলিয়ে নেই 4C গুলোর দিকে।

Customer: যেকোন বিজনেসের নিউক্লিয়াস হচ্ছে Customer। Customer নেইতো আপনার বিজনেসও নেই। Customer কে নিয়ে রিসার্চ করুন। আপনার বিজনেস এর গ্যাপগুলো খুজে বের করুন যাতে Customer আপনাকে ছেড়ে না যেতে পারে। অবশ্যই সম্ভব হলে আপনার Customer এর জন্য একটু বেশি কিছু করার চেষ্টা করুন। ভুলে গেলে চলবে না আপনার বর্তমান Customer ভবিষ্যতে আপানকে নতুন আরও Customer এনে দিবে এবং আপনার ব্র্যান্ডটিকেও প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Commitment: লম্বা সময়ের জন্য বিজনেস করতে গেলে অবশ্যই আপানকে Commitment এর কথা ভুলে গেলে চলবে না। আপানর Customer/Client এর সাথে করা Commitment একদম ভুলে গেলে চলবে না। এটা নিশ্চিত থাকুন আপনি যদি Commitment রক্ষা করতে না পারুন আপনার ব্র্যান্ডও সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাবে। প্রায় দেখা যায় অনেক এজেন্সী আছে যারা ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে কাজ পাবার আগে সারাদিন তাদের পিছনে ঘুরতে থাকে, কিন্তু একবার কাজটি পেয়ে গেলে তখন উল্টা চিত্র দেখা যায়। তখন দেখা যায় ক্লায়েন্ট তাদের পিছে ঘুরতে থাকে কাজটি আদায় করে নেয়ার জন্য। ক্যাম্পেইন শুরুর আগের দিন পর্যন্ত ক্লায়েন্টকে অস্থিরতার মধ্যে কাটাতে হয়। অথচ কাজটি পাবার আগে এজেন্সী কত রকমের যে কমিট্মেন্ট করে।

Consistency: আপনার ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য Consistency আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। Consistency না থাকলে আপনার ব্র্যান্ডেরও হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যেমন ধরুন আপনার ব্র্যান্ড এর ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব এর কথা। এই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আপনি মন চাইলে অনেকদিন পর পর কনটেন্ট পাবলিশ করছেন আবার দেখা যায় অনেকে কনটেন্ট পাবলিশ করাই বন্ধ করে দেন। বলাই যায় আপনি Consistency ধরে রাখতে পারছেন না এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে আপনার ব্র্যান্ডও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকবে।

Communication: আপনার ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে Communication এর কোন বিকল্প নেই। আপনি যদি আপানর ব্র্যান্ডের Communication মেনটেইন করতে পারেন তাহলে বলা যায় আপনার ব্র্যান্ডটিকে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এতটুকু হলফ করে বলা যায় আপনি যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী Communication ( সেটি হতে পারে আপনার Client, Logical Support Team, Employee ইত্যাদি) করতে পারেন অনেক বড় বড় সমস্যা সহজে সমাধান করতে পারবেন।

ভুলে গেলে চলবে না যে একটি ব্র্যান্ড রাতারতি গড়ে উঠে না। অনেক পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্র্যান্ডকে গড়ে তুলতে হয়। এই 4C ছাড়াও আরও অনেক বিষয় নিয়ে আপানকে কাজ করতে হবে একটি ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য।

ডিজিটাল মার্কেটিং : অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্কর

কিছুদিন আগে খুব কাছের এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জানতে পারলাম কিছুদিন আগেই সে নতুন বিজনেস শুরু করেছে। যেহেতু বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ বড় ভাইও ফেসবুকে নিজের বিজনেসের জন্য একটি পেজ খুলে ফেলেছে। আর নিজের কাছে ডূয়াল কারেন্সির কার্ড থাকার সুবাধে নিজের পেজের পেইড এডভারটাইজিংটা নিজেই চালাচ্ছিল। বিভিন্ন কথার মাধ্যমে জানতে পারলাম ইতোমধ্যে সে ফেসবুক এডভারটাইজিং এর পিছনে অনেক টাকা খরচ করে ফেলেছে। পেইজ শুরুর সময় কোনভাবে সে জানতে পেরেছে পেইজে যত বেশি লাইক থাকবে তার প্রোডাক্ট এর বিক্রির সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে। যেহেতু তার নিজস্ব দুয়াল কারেন্সির কার্ড আছে তাই সে বিন্দুমাত্র দেরি করে নি। সাথে সাথে লাইক আনার মিশনে নেমে পড়েছে। যেহেতু বিক্রি বেড়ে যাবে সেই উত্তেজনায় সে ৫০ হাজার এর উপর লাইক নিয়ে আসলো পেইজে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এড চালানোর সময় কি অডিয়েন্স সেট করেছিলেন। আমি তার উত্তর শুনে রীতিমত হতভম্ব। সে কোন অডিয়েন্স নির্বাচন না করেই ইচ্ছেমত পেইজে লাইক নিয়ে এসেছে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে প্রোডাক্ট এর যারা প্রকৃত অডিয়েন্স এর মধ্যে পড়ে না তাদের সংখ্যাই বেশি। দিন শেষে ফলাফল শূন্য।

আবার যখন পোস্ট প্রমোট করছে তখন রিচ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু কোন রেসপন্স আসছে না। তার কথা শুনেই আমার একটা খটকা লাগলো। ফেসবুক ক্যাম্পেইন এর অবজেক্টিভ নির্বাচনে কোথাও না কোথাও ভুল হয়েছে। সাথে ল্যাপটপ থাকায় আমি তার রানিং ক্যাম্পেইনগুলো দেখতে চাইলাম। যা ভেবেছিলাম তাই। তার দরকার সেল, অথচ সে নির্বাচন করে রেখেছে “রিচ” অবজেক্টিভ। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম রিচ অবজেক্টিভ নির্বাচন করার পিছনে কারণ কি? সে আমাকে যে লজিক শুনাল তা শুনে আমি হাসব না কাদবো বুঝে উঠতে পারলাম না। তার ধারণা তার এডটি যত বেশি রিচ করবে তার প্রোডাক্ট সেল হবার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে। দিন শেষে ফলাফল একদম শূন্যর কোঁটায়। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কোন ধারণা না রেখেই আমার কাছের বড় ভাইটি নেমে পরেছিল তার বিজনেস বড় করার মিশনে। ডিজিটাল মার্কেটিং সহজ কোন বিষয় না। আসলাম দেখলাম আর জয় করে ফেললাম এত সহজ হলে সবাই আজ ডিজিটাল মার্কেটার হয়ে যেত।

একটি জিনিস আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিৎ “অল্পবিদ্যা সবসময় ভয়ঙ্কর”, কখনও ভালো কিছু ডেকে আনতে পারে না।

ডিজিটাল মার্কেটারের কাজটা আসলে কি?

বেশ কয়েক বছর আগে যখন ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করা শুরু করলাম তখন মানুষকে বুঝাতে রীতিমত ঘাম ঝড়িয়ে যেত একজন ডিজিটাল মার্কেটার আসলে করেটা কি। আগের থেকে বর্তমানে অবস্থা অনেক উন্নতি হয়েছে তবুও এখনও অনেকে মনে করে ফেসবুকে বুস্টিং চালানোর মধ্যেই একজন ডিজিটাল মার্কেটারের কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ মানুষের ধারণার বাইরে যে ডিজিটাল মার্কেটারের কাজের পরিধি কতটা বিশাল। আসুন এক নজরে একটু চোখ বুলিয়ে নেই একজন ডিজিটাল মার্কেটার কি ধরণের কাজ করে।

  • অনলাইন ক্যাম্পেইন শুরুর আগে বিভিন্ন রকমের পরিকল্পনা করা (যেমন, অডিয়েন্স এনালাইসিস, ক্যাম্পেইন অবজেকটিভ ইত্যাদি) ডিজিটাল মার্কেটারের অন্যতম প্রধান কাজ।

 

  • অনলাইনে ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পর ক্যাম্পেইন এর বিভিন্ন রকমের প্যারামিটার মনিটর করাও ডিজিটাল মার্কেটারের কাজ। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না আসলে অপটিমাইজেশন করা ডিজিটাল মার্কেটারের কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।

 

  • ডেটা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং যেন একে অপরের পরিপূরক। ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করবেন আর ডেটাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাবেন তা কখনও সম্ভব না। যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় একজন ডিজিটাল মার্কেটারের ডেটা এনালাইসিস করতে হয়।

 

  • বিভিন্ন রকমের প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করা এখন যেন ডিজিটাল মার্কেটারের জন্য ফরয হয়ে গিয়েছে। কেননা বিজনেসগুলো এখন কেবল মাত্র একটি অথবা দুটি প্ল্যাটফর্ম এর উপর নির্ভরশীল থাকতে পারছে না তাদের কাঙ্খিত অডিয়েন্স এর কাছে পৌঁছানোর জন্য। যেহেতু বিজনেসগুলো এখন বিভিন্ন রকম প্লাটফরমের উপর নির্ভর সেজন্য ডিজিটাল মার্কেটারের এসব প্লাটফর্মের উপর দক্ষ হতে হয় একই সময়।

 

  • ডিজিটাল মার্কেটারের জন্য কমিউনিকেশন অত্যন্ত জরুরি বিষয়। একটি ক্যাম্পেইন সফল্ভাবে চালানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের কমিউনিকেশন অব্যাহত রাখতে হয় ডিজিটাল মার্কেটারকে। কমিউনিকেশন হতে পারে ক্রিয়েটিভ টিমের সাথে কিংবা ক্লায়েন্ট এর সাথে অথবা সেলস টিম এর সাথে। কমিউনিকেশন এর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটার তার ক্যারিয়ারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।

 

  • ডিজিটাল মার্কেটারের শুধু টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে হয় না। ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে তাকে ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে হয়। কেননা সাফল্য পেতে হলে আপানকে দুইটি বিষয় নিয়ে একসাথে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

 

  • ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে যারা কাজ করছে তাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয় এই পরিবর্তনগুলোর সাথে যত দ্রুত পারা যায় খাপ খাইয়ে নেয়া। এইজন্য ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে সবসময় আপডেট থাকার জন্য পড়াশুনা করাটাও ডিজিটাল মার্কেটারের অন্যতম কাজ।

 

  • অনলাইন ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য নতুন আইডিয়া তৈরি করাও ডিজিটাল মার্কেটারের কাজ এর মধ্যে পড়ে।

 

  • ক্রিয়েটিভ টিম এর সাথে কাজ করা ডিজিটাল মার্কেটারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন প্লাটফর্মের জন্য কি রকম ক্রিয়েটিভ ভালো ফল নিয়ে আসতে পারে সে বিষয়ে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়াটাও ডিজিটাল মার্কেটারের কাজ।

 

  • বিভিন্ন রকমের রিপোর্ট তৈরি করাটাও ডিজিটাল মার্কেটারের অন্যতম একটি কাজ।

 

  • বর্তমান সময় সোশ্যাল মিডিয়ার বলা চলে। একই সময় বিভিন্ন রকমের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে হয় ডিজিটাল মার্কেটারের। বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টুলগুলো নিয়ে কাজ করতে হয় ডিজিটাল মার্কেটারকে।

 

  • প্রোডাক্ট ডিজাইনে একটি বড় ভুমিকা পালন করে থাকে ডিজিটাল মার্কেটার। এছাড়া সময় বিবেচনা করে কি রকমের অফার টার্গেট কাস্টমার এর কাছে উপস্থাপন করা যায় সেগুলি নিয়েও ডিজিটাল মার্কেটার কাজ করে থাকে।

উপরে আলোচিত বিষয়গুলো ছাড়াও বিভিন্ন প্লাটফর্মের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে যেতে হয়ে একজন ডিজিটাল মার্কেটারের। ডিজিটাল মার্কেটিং সহজ কোন বিষয় নয় যে আসলাম আর সব শিখে ফেললাম। ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজের পরিধি ব্যাপক। যারা ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে বহুদিন ধরে কাজ করছে তাদেরও প্রতিনিয়ত শিখার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

অতি দরকারি এবং কার্যকরী কিছু মার্কেটিং টিপস!

বেশিরভাগ সময় আমরা ছোট ছোট জিনিস এড়িয়ে চলি মনের ভুলেই অথবা ইচ্ছে করেই। হয়তোবা এই ছোট ছোট জিনিসগুলো এড়িয়ে না গেলে সাফল্যটা আরেকটূ সহজেই ধরা দিত। মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও এরকম ছোট ছোট অনেক বিষয় আছে যা অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে যদি সঠিকভাবে এপ্লাই করা যায়। এইখানে এরকম কিছু ছোট ছোট বিষয় তুলে ধরলাম।

  • যেখানেই যান না কেন বিজনেস অথবা ভিজিটিং কার্ডটা নিতে একদমি ভুলবেন না। বিজনেস কার্ড আপনার বিজনেস এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। এর মাধ্যমে অনেকটা সহজে আপনার বিজনেস এর মার্কেটিংটা করে ফেলতে পারছেন।

 

  • নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। কখন কার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন আপনি নিজেও জানেন না। নেটওয়ার্কিং এর গুরুত্ব আমরা এখনও সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারি না। অনেকেরেই ধারণা এত নেটওয়ার্ক করে কি হবে? আমি একাই একশো।

 

 

  • আপনার প্রতিযোগীকে নিয়ে এনালাইসিস করুন। এনালাইসিস করার মাধ্যমে নতুন অনেক কিছুই আপনি যোগ করতে পারবেন আপনার বিজনেস এর জন্য অথবা মার্কেটিং প্ল্যানে। তাই বলে আবার ভেবে নিবেন না যে আমি হুবহু কপি করতে বলছি।

 

  • সবসময় নিজের মন যা চাইল সেভাবে করে মার্কেটিং করার প্রয়োজন নেই। আপনার টার্গেট কাস্টমার কি চাচ্ছে তাদের জায়গায় নিজেকে চিন্তা করে আপনার বিজনেস এর মার্কেটিং প্লান সাজান।

 

  • গ্রাহক কোন চ্যানেলের মাধ্যমে আপনার কথা শুনে তা খুজে বের করুন, ধরুন গ্রাহক যদি আপনাকে সার্চ ইঞ্জিনে,সোশ্যাল মিডিয়াতে,একটি ব্লগের মাধ্যমে শুনে থাকে তবে সেই দিক গুলোর মাধ্যমে আপনার পণ্য বা সেবার মেসেজ আপনার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেন।

 

 

  • পারসোনাল ব্র্যান্ডিং আপনি কখনই এড়িয়ে যেতে পারবেন না। নিজের ব্র্যান্ডিং নিজেকেই করতে হয়। অন্য কেও এসে আপনার হয়ে গলা ফাটাবে না। নিজের যতটুকু স্কিল আছে সেগুলো প্রচার করুন, দেখবেন কোন না কোনভাবে কাজে দিবে। সাথে নতুন নতুন স্কিল অর্জন করতে থাকুন আর নিজের জন্য বেশি বেশি সময় ব্যয় করুন। দেখবেন উপার্জনের বিভিন্ন পথ আপনার সামনে খুলে যাবে ইনশাল্লাহ।

 

  • আপনার প্রতিযোগী থেকে একটু ভিন্নভাবে নিজেকে ক্রেতার কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন সবসময়। ক্রেতা আপনার কাছে আসতে বাধ্য যদি নিজেকে একটু অন্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারুন।

 

  • ধারাবাহিকতা রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় অনলাইন কিংবা অফলাইন উভয় ক্ষেত্রে।

 

  • সবসময় আপনার বিজনেস পেইজে সেল পোস্ট করতে হবে এমনটা নয়। মাঝে মাঝে অন্যকিছু পোস্ট করতে পারেন যার মাধ্যমে কাস্টমার এনগেজমেন্ট খুব সহজে বাড়াতে পারেন । আপনার প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস এর বিভিন্ন ধরণের উপকারিতা নিয়ে পোস্ট করতে পারেন। আপনার প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস ব্যাবহার করে কিভাবে আপনার টারগেটেড কাস্টমার এর সমস্যা দূর হতে পারে সেগুলো তুলে ধরতে পারেন আপনার পোস্ট এর মাধ্যমে। দেশি বিদেশি বিখ্যাত মারকেটাররা বলে থাকেন ৮০-২০ রুলস ফলো করার জন্য বিজনেস পেজে পোস্ট করার ব্যাপারে, যদি ২০% সেল পোস্ট করি তাহলে বাকি ৮০% পোস্ট হবে সোশ্যাল পোস্ট। পুরাতন ধারণা থেকে বের হয়ে আসুন এবং বিজেনস পেজে পোস্ট এর ব্যাপারে আরেকটূ চিন্তা করে দেখুন।

 

  • আপনার ব্যবসার কাস্টমার নিয়ে রিসার্চ করুন, কাস্টমার এর পিছনে সময় ইনভেস্টমেন্ট করুন। এর চেয়ে মহামূল্যবান ইনভেস্টমেন্ট আর হতে পারে না। আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি করার পর ও কাস্টমার এর সাথে যোগাযোগ বজায় রাখুন, আপনার প্রোডাক্টটি ব্যবহার করতে গিয়ে তিনি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে কিনা জানতে চেষ্টা করুন। বর্তমান সময় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ মার্কেটে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য কাস্টমার এর সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

 

  • নিজে যতবেশি জানবেন ততবেশি অন্যদের প্রভাবিত সহজে করতে পারবেন। আর মার্কেটিং এর অন্যতম প্রধান শর্তই হচ্ছে অন্যকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করা আপনার পণ্য অথবা সার্ভিস নেয়ার জন্য।

 

  • কাস্টমার ডেটাবেজ তৈরি করতে একদমি ভুলে গেলে চলবে না। আপানর কাস্টমার ডেটাবেজ যত বেশি সমৃদ্ধ হবে তত বেশি সাফল্যর প্থটাও প্রশস্ত হবে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস উপরে উল্লেক্ষিত বিষয়গুলো যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারি তাহলে আমাদের বিজনেস অথবা যেকোন ক্ষেত্রে সাফল্য সহজে ধরা দিবে। ধন্যবাদ সবাইকে।